ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

চাতরীতে ইজারাদারের ম্যানেজারকে পিটিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে দোকান দখলকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও বাজারের ইজারাদারের ম্যানেজারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং বাজারের দৈনিক তোলা আদায়ের নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।এঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ জাগির আহমদের ম্যানেজার মো. হেলাল চৌধুরী (৩৫) বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল ৫টার দিকে চাতরী চৌমুহনী বাজারের মুদি দোকানদার মো. রুবেলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন, স্থানীয় মো. দেলোয়ার ওরফে ভাঙা দেলোয়ার (৪২), মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে দোহা শহীদ (৪৫), আবদুল হামিদ ওরফে সুমন (৫২), ইসহাক ওরফে মনু (২৬) এবং মো. ওসমান (৩৮)।এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী মো. রুবেলের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জের ধরে আসামিরা রুবেলের বরাদ্দকৃত দোকানটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো কিরিচ, লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে রুবেলের মুদি দোকানে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে।একপর্যায়ে রুবেলকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। খবর পেয়ে ইজারাদারের ম্যানেজার হেলাল চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং পিটিয়ে আহত করে। এ সময় আসামি দেলোয়ার ও শহিদুল হেলাল চৌধুরীর পকেটে থাকা ইজারা আদায়ের নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দোকানে তাণ্ডব চালিয়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে দোকানের টিন, বাঁশ ও কাঠের খুঁটিসহ অবকাঠামো খুলে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাজারের ইজারাদার মো. জাগিরসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।চাতরী চৌমুহনী বাজারের ইজারাদার মো. জাগির আহমদ বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমি ছিলামও না। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসিয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে তারাই চাঁদা না পেয়ে হামলা করে তা দখলে নিতে চেয়েছিল। ঘটনার দিনের ভিডিওচিত্রতে তা প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।’এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চাতরীতে ইজারাদারের ম্যানেজারকে পিটিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ